শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * এক টানা ৫ দিন ছুটি আসছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে,   * কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন:দেবীদ্বার থেকে চাঁদাবাজি,মাদক বিদায় নেবে,১২ তারিখ সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে :   * কুমিল্লা-১০: বিফল হল আপিলেও : গফুর ভুইয়া নির্বাচনে লড়তে পারবেন মোবাশ্বের   * জামায়াতের আমির বলেন:আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না   * কুমিল্লায় উন্নয়নের রোডম্যাপ তুলে ধরলেন মনির চৌধুরী   * কুমিল্লার পুলিশ ৩৪৩ জন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর খোঁজে ,   * এক মাসের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগ হবে,১১–দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে: আসিফ মাহমুদ   * আজ ইসিতে চলছে পঞ্চম দিনের শুনানি   * জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা,নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলার জন্য.   * সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতনের সিদ্ধান্ত,কমিশনের প্রতিবেদন পেলেই  

   কৃষি সংবাদ
মুন্সিগঞ্জের কৃষকদের জন্য আলু এখন `গলার কাঁটা`
  Date : 05-09-2025
এনামুল হাসান অপু : 
দেশের প্রধান আলু উৎপাদনকারী জেলা মুন্সিগঞ্জ। এ জেলার মাটিকে বলা হয় `বাংলার শস্যভান্ডার`। কিন্তু এই বছর আলুর বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোর বদলে এনেছে গভীর উদ্বেগ। উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে এখন হিমাগারে মজুতকৃত আলুই কৃষকের জন্য `গলার কাঁটা` হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয় ১৭ টাকা। এর সঙ্গে হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করলে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৭ টাকা। অথচ বর্তমানে হিমাগারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১১ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি কেজি আলুতে কৃষকের লোকসান হচ্ছে প্রায় ১৬ টাকা। খুচরা বাজারে অবশ্য আলুর দাম ২০ টাকা হলেও, মাঝখানের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে, যার সুফল কৃষকেরা পাচ্ছেন না। এমন ভয়াবহ দরপতনে জেলার প্রায় ১০ লক্ষাধিক আলুচাষী এখন দিশেহারা।
​এ বছর মুন্সিগঞ্জে প্রায় ৩৪ হাজার ৭৫৮ হেক্টর জমিতে ১০ লাখ ৮২ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬০ হাজার টন বেশি। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। জেলার ৫৮টি হিমাগারে মাত্র ৫ লাখ ৭ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আশঙ্কাজনক খবর হলো, এখন পর্যন্ত মাত্র ৫২ হাজার টন আলু বাজারজাত করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে, হিমাগারে এখনো মজুত রয়ে গেছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টন আলু। গত বছর এই সময়ে মজুত ছিল এর প্রায় অর্ধেক, ২ লাখ ৭০ হাজার টন। দিন যত যাচ্ছে, আলুর চাহিদা তত কমছে, ফলে হিমাগারে আলুর পাহাড় জমছে, যা কৃষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে।
কৃষক নুরু মিয়া বলেন,এবার আলুতে আমরা চালান পাবনা। আলুর দাম একেবারেই কম। আমি এক কানি জমিতে আলু চাষ করেছি। আলুর দাম কম থাকায় কোল্ড স্টোরেজের রেখেছি। কিন্তু এখনো দাম কমই রয়েছে দাম বাড়েনি এখন ১১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন দামে আলু বিক্রিয় করলে আলু রোপন করতে যে টাকা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক ও পাবোনা। এরমধ্যে কোল্ড স্টোরেজ ভাড়াও রয়েছে।
 
রফিক সরদার বলেন,এ বছর আলুতে আমাদের অনেক লোকসান হবে। এমন থাকলে সামনের বছর আর আলু চাষ করবো না। আলুর দাম কম কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া বেশি। এভাবে আলুর ব্যবসা চলতে থাকলে আমরা পথের ফকির হয়ে যাব। 
 
​মুন্সিগঞ্জের আলু ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে তারা ক্রমাগত লোকসানের মুখে পড়েছেন। এই বছরও যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেকে। তারা বলছেন, নতুন মৌসুম শুরুর আগেই এই সমস্যার সমাধান করা না গেলে আলু উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
 
​কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি হস্তক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই সংকট মোকাবেলায় সরকারের উচিত দ্রুত আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করা এবং সরকারি সংস্থাগুলোকে দিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে আলু কেনা।
 
​মুন্সিগঞ্জের কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন, তাদের প্রধান ফসল আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং বিদেশে আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করা হোক। তাদের দাবি, মুন্সিগঞ্জের আলুর মান ভালো, তাই বিদেশে এর চাহিদা তৈরি করা সম্ভব। সরকারের সহযোগিতা পেলে এই অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য ফিরতে পারে।


  
  সর্বশেষ
সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের নির্মাণশৈলী উন্নত করতে হবে” — তথ্য উপদেষ্টা
বিনিয়োগে ধস: অনিশ্চয়তায় থমকে গেছে বিদেশি পুঁজি
যানজটে আটকা পড়ে মোটরসাইকেলে চড়ে পরিদর্শনে উপদেষ্টা
‘সব কিছুরই শেষ আছে’—আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে পলক



সম্পাদক ও প্রকাশক:
মো:তরিকত উল্লাহ
অফিস: ১০৯৯ মালিবাগ হক সেন্টার, ৫মতলা ঢাকা -১২১৯ । মোবাইল : ০১৭১১২৫৩১৯৩