প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ বাংলাদেশ। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বর্তমানে যে প্রাণঘাতী দুর্যোগ প্রায়ই ঘটছে তা হলো বজ্রপাত। প্রায় প্রতিনিয়তই খবর মিলছে দেশের কোনো না কোনো জায়গায় বজ্রপাতে প্রাণহানির। মূলত বছরের এপ্রিল-মে মাসে এর প্রকোপ বেড়ে যায়। বৈশ্বিক উষ্ণতা, জলবায়ু পরিবর্তন, বনভূমি উজাড়, তালগাছসহ সুউচ্চ গাছ না থাকা, জলাশয় ভরাট, যন্ত্রের দাপট, বৈদ্যুতিক টাওয়ার ঘন ঘন বজ্রপাতের জন্য দায়ী। সম্প্রতি বজ্রপাতের ঘটনাগুলো ঘটছে উন্মুক্ত ও হাওর এলাকায়। যারা হাওর-বাঁওড়ে কৃষিকাজ, মাছ ধরা, গরু চরানোর কাজে থাকেন তারাই বেশি বজ্রপাতের শিকার হচ্ছেন। যেহেতু এর কোনো আগাম সংকেত পাওয়া যায় না, তাই এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সতর্কতা। আসলে কী ঘটে বজ্রপাতে? এতে বৈদ্যুতিক চার্জ সৃষ্টি হয়। মেঘের ওপরের অংশে ধনাত্মক (প্লাস) শক্তি এবং নিচের অংশে ঋণাত্মক (মাইনাস) শক্তি উৎপন্ন করে। যখন এ দুটি অংশের একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় তখন তাদের থেকে একটি বৈদ্যুতিক চার্জ নির্গত হয়, যা একটি স্পার্ক সৃষ্টি করে। একে বজ্রপাত বলে। বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে বাড়িতে থাকলে জানালা ও বারান্দায় থাকা সমীচীন নয়। ঘরের ভেতরে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। মোবাইল, ল্যাপটপ, ল্যান্ডফোন, টিভি, ফ্রিজের লাইন খুলে রাখতে হবে। বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছাকাছি থাকা যাবে না। যারা মাঠে-ঘাটে, হাওরে কাজ করেন তাদের আবহাওয়ার গতি বুঝে, আকাশে কালো মেঘ ঘনিয়ে এলে তাড়াতাড়ি নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। মেঘ থেকে ভূমিতে হওয়া একটি সাধারণ বজ্রপাতে প্রায় ১ বিলিয়ন জুল শক্তি উৎপন্ন হয়। একটি সাধারণ বজ্রপাতে ফ্লাশ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ভোল্ট এবং প্রায় ৩০০০০ অ্যাম্পিয়ার বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এ আপদ থেকে বাঁচতে সতর্কতা, সচেতনতার বিকল্প নেই। জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। প্রতিরোধে তালগাছসহ সুউচ্চ অন্যান্য গাছ রোপণ করা জরুরি। আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম, প্রাক-সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, লাইটেনিং অ্যারেস্টর (বজ্রপাত নিরোধক) স্থাপন করা দরকার। সর্বোপরি বজ্রপাত থেকে বাঁচতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। নিজে সতর্ক থাকুন, অন্যকে সতর্ক করুন। প্রাণঘাতী বজ্রপাতে মৃত্যু প্রতিরোধ করুন।
শ্যামল চৌধুরী : সাংবাদিক, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা