অনলাইন ডেস্ক
ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশের স্বনামধন্য মানবিক সংগঠন মাস্তুল ফাউন্ডেশন। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষকে সহায়তা দিতে সংস্থাটির একটি বিশেষ টিম বর্তমানে মিশরে অবস্থান করছে। সেখান থেকে স্থানীয় ভলান্টিয়ারদের সহযোগিতায় গাজার অভ্যন্তরে সরবরাহ করা হচ্ছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী।
প্রতিদিন প্যাকেটজাত করা হচ্ছে চাল, আটা, তেল, টুনা মাছ, মসলা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। একেকটি ফুডপ্যাক কয়েকদিনের জন্য একটি পরিবারকে খাদ্যনিরাপত্তা দিতে সক্ষম। এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে মিশরীয় সীমান্ত ঘেঁষা বিভিন্ন শরণার্থী ক্যাম্প থেকেও, যেখানে নিয়মিত বিতরণ করা হচ্ছে পানি ও শুকনো খাবার।
তবে সংস্থাটি জানায়, চাহিদার তুলনায় সহায়তার পরিমাণ এখনও অপর্যাপ্ত। ফলে, ক্যাম্পে ত্রাণ দিতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছে।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন আহতদের চিকিৎসা সহায়তার বিষয়েও পদক্ষেপ নিয়েছে। সরবরাহ করা হচ্ছে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা। বিধবা, এতিম এবং অসহায় শিশুদের জন্য বিশেষ ত্রাণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। গাজায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দিকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে সংস্থাটি।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, “গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি আমাদের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। শুধু খাদ্য নয়, আহতদের চিকিৎসা ও শিশুদের নিরাপত্তার কথাও আমরা ভাবছি। মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও জানান, সংস্থার পক্ষ থেকে গাজায় সহায়তা অব্যাহত থাকবে ইন শা আল্লাহ।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মাস্তুল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধিত একটি স্বেচ্ছাসেবী ও সেবামূলক জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বিগত এক দশকে করোনা মহামারি, ভয়াবহ বন্যা, সাইক্লোন এবং আন্তর্জাতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে তারা।
এর আগে, ২০২৩ সালে তুরস্কে ভূমিকম্পের সময় সংস্থাটি বাংলাদেশ থেকে ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছিল।
‘যাকাত স্বাবলম্বী’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাস্তুল ফাউন্ডেশন অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে স্থায়ী কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে এসেছে। এছাড়াও, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন বিনামূল্যে একবেলার খাবার বিতরণ, হাউজিং প্রকল্প, মাদ্রাসা, সেল্টারহোম, এতিমখানা এবং বারইখালিতে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে।